ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মডেল মসজিদের নামে যা হয়েছে, গর্হিত কাজ, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 13, 2026 ইং
মডেল মসজিদের নামে যা হয়েছে, গর্হিত কাজ, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক

মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে ২১ কোটি টাকায় কীভাবে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করা হয়েছে। ইসলামের নামে, মসজিদের নামে যা করা হয়েছে, তা “গর্হিত কাজ”।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী ২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসাইনের পক্ষে এ বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। সম্পূরক প্রশ্নে জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণে ১৩ কোটি টাকা থেকে ২১ কোটি টাকা পর্যন্ত বাজেট হয়েছে। এত অর্থ ব্যয়ের পরও অনেক স্থাপনার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, “এ বিষয়গুলো তদন্ত করা দরকার। এত টাকার অপচয় হয়েছে। আমার সেনবাগের মডেল মসজিদে প্রবেশ করা যায় না, ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাই।”

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি মডেল মসজিদের অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্গাপুরের একটি মডেল মসজিদের সামনে বড় একটি পুকুর থাকায় সেখানে যেতে সেতুর প্রয়োজন হয়। স্থানীয়রা সেটির নাম দিয়েছেন “তাজমহল”। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে অর্থ লোপাটের বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমি বলছি না, পদ্মা সেতুর মতো দুর্নীতি এখানে হয়েছে। তবে ইসলামের নামে, মসজিদের নামে তারা যা করেছে, সেটা গর্হিত কাজ। মডেল মসজিদ অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। কিন্তু মডেল মসজিদের জন্য প্রকল্প ব্যয়ের প্রাক্কলন যথাযথ হয়েছে কি না, সেটা যুক্তিসংগত প্রশ্ন।”

তিনি আরও বলেন, “মডেল মসজিদের প্রকল্প ব্যয় ১৩ কোটি থেকে ২১ কোটিতে কীভাবে গেল, কতটি মডেল মসজিদ ছিল, সেটা মসজিদওয়ারি তদন্ত পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সরকারের অন্যান্য সংস্থাও জড়িত হতে পারে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে সময় ও ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর অভিযোগ অতীতে উঠে এসেছে। তার ভাষায়, “দুর্নীতি করার জন্য প্রাক্কলনের মধ্যেই আগে ঢুকেছে। এরপর সময় বৃদ্ধি হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে।” মডেল মসজিদ প্রকল্পেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানান। এদিন সংসদে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আরও কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম ১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের লিখিত উত্তরে জানানো হয়, দেশে নিবন্ধিত ওয়াক্ফ সম্পত্তির পরিমাণ ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ দশমিক ৯৮ একর। এর মধ্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এখন পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৫৩ একর ওয়াক্ফ সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে।

নরসিংদী ১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে জানানো হয়, বর্তমানে ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ধর্মীয় ব্যক্তিকে সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৩ জন ইমাম, ৪ হাজার ৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩ হাজার ৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবায়েত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ এবং ৬৭ জন বৌদ্ধ উপাধ্যক্ষ। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির আওতায় আনার কথাও জানানো হয়।




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
‘নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ’

‘নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ’