ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম উপকূলীয় ডিএফও এমএ হাসান: ঘুষের টাকা নেন এসএ পরিবহণে!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
চট্টগ্রাম উপকূলীয় ডিএফও এমএ হাসান: ঘুষের টাকা নেন এসএ পরিবহণে! ছবির ক্যাপশন: বদলি বাণিজ্যে ছয় লাখ টাকার চুক্তি॥ উপবন সংরক্ষক এমএ হাসানের নামে এসএ পরিবহনে এক লাখ টাকা পাঠানোর অভিযোগ
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনাঞ্চলে বদলিকে কেন্দ্র করে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ছয় লাখ টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এই চুক্তির অংশ হিসেবে এক লাখ টাকা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপবন সংরক্ষক ও উপকূলীয় বন বিভাগের অতিরিক্ত দায়িতপ্রাপ্ত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এমএ হাসানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। 
এমনই একটি এসএ পরিবহনের পার্সেল বুকিং রসিদ পাওয়া গেছে। রসিদে প্রাপক হিসেবে এমএ হাসানের নাম, মোবাইল নম্বর এবং টাকার পরিমাণ হিসেবে এক লাখ টাকা উল্লে­খ রয়েছে।
রসিদটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লি­ষ্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে রসিদটি সঠিক বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় বন বিভাগের বদলি বাণিজ্য এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সংশ্লি­ষ্ট বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় বন বিভাগের একটি রেঞ্জে বদলির জন্য এমএ হাসানের সঙ্গে ছয় লাখ টাকার ঘুষের চুক্তি হয় একজন রেঞ্জ কর্মকর্তার। ওই অর্থ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এমএ হাসানের কাছে পাঠানো হয়। কুরিয়ার রশিদে প্রেরক হিসেবে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তার নামও রয়েছে।
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের ডিএফও এম এ হাসানের কাছে এস পরিবহনের মাধ্যমে পাঠানো ঘুষের টাকার রশিদ

এ বিষয়ে সংশ্লি­ষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা এমএ হাসানের কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথা স্বীকার করেন। তবে কী কারণে টাকা পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি তিনি।
উপকূলীয় বন বিভাগের এক রেঞ্জ কর্মকর্তা রশিদকান্ডের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমএ হাসানের একটি নিজস্ব সিন্ডিকেট রয়েছে। পুরো চট্টগ্রাম বন বিভাগের কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব রয়েছে। তিনি বন সংরক্ষকের (সিএফ) ডান হাত বা ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেন। সুন্দরবনে কর্মরত থাকাকালেও তিনি বন সংরক্ষক মিহির কুমার দের অধীনে কাজ করেছেন। তখন থেকেই তাঁদের মধ্যে ভালো জানাশোনার সম্পর্ক।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা পাঠালে লেনদেনের প্রমাণ থেকে যায়। ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়াতে বিভিন্ন কর্মচারী, আত্মীয়স্বজন ও মধ্যস্থতাকারীদের ব্যবহার করে বদলি বাণিজ্যের অর্থ লেনদেন করা বন বিভাগের পুরোনো রীতি।
তাঁর দাবি, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের ঘটনা নতুন নয়। বদলি বাণিজ্যের পাশাপাশি বাগান সৃজন প্রকল্পের অর্থ লেনদেনেও দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপবন সংরক্ষক ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এমএ হাসান প্রথমে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে কোনো টাকা গ্রহণ করেননি বলে জানান গণমাধ্যমকে।
পরে তাঁকে কুরিয়ার সার্ভিসের রসিদটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। রসিদে তাঁর নাম ও এক লাখ টাকা উল্লে­খ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, “কে দিয়েছে, তাকে সামনে আনেন। এই টাকা কেন নেওয়া হয়েছে, আপনাকে বলব না। আপনি যা ভাবার ভাবতে পারেন।”
গণমাধ্যম কর্মীর পরবর্তী প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “আপনার কোনো কাজ নেই?” এরপর তিনি কল কেটে দেন।
ফোনালাপ শেষ হওয়ার পরপরই তিনি কয়েকজন রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ফোন করেন। তাঁদের জরুরি কথা আছে জানিয়ে ভয়েস বার্তাও পাঠান বলে জানিয়েছেন এক রেঞ্জ কর্মকর্তা।
এ ছাড়া প্রতিবেদন প্রকাশ না করতে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা এবং একজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে এই প্রতিবেদকের কাছে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হলে তা প্রত্যাখ্যান করেন প্রতিবেদক।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমএ হাসান তাঁর অধীনে সুন্দরবনে কাজ করেছেন, এটি সত্য। তবে কেউ তাঁকে ডান হাত বা বাম হাত বলতে পারেন। এমএ হাসান তাঁর ডান হাত ছিলেন না।
কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পথে যাওয়া যাবে না: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পথে যাওয়া যাবে না: তথ্যমন্ত্রী