তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পড়াশোনা আর শুধু ক্লাসরুমের চার দেয়ালের মাঝে আটকে নেই। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা এখন অনেকটাই অনলাইন নির্ভর হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের পর্দায় এখন প্রতিদিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুম তৈরি হয়। ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক, সবার জন্যই এই ভার্চুয়াল পড়াশোনার জগতকে সহজ ও গতিশীল করতে বেশ কিছু ডিজিটাল টুলের ভূমিকা অপরিহার্য। ঠিকমতো এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পারলে পড়াশোনার মান ও মনোযোগ দুইই কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নিচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকছে, যা বর্তমান সময়ের অনলাইন পাঠদান ও পাঠগ্রহণের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারি। অনলাইনে পড়াশোনার কথা উঠলেই সবার আগে আসে সরাসরি বা লাইভ ক্লাসের কথা। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের দূর থেকে যুক্ত করতে বেশ কয়েকটি অ্যাপ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এর মধ্যে জুম, গুগল মিট এবং মাইক্রোসফট টিমস সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
জুম (তড়ড়স)
জুমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো খুব সহজেই অনেক মানুষ একসঙ্গে যুক্ত হওয়া যায়। স্ক্রিন শেয়ার করা, হোয়াইটবোর্ড ব্যবহার করে অংক বা বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলো বুঝিয়ে দেওয়া এবং ক্লাসের ভিডিও রেকর্ড করে রাখার সুবিধার জন্য এটি শিক্ষকদের প্রথম পছন্দ। শিক্ষার্থীরা চাইলে চ্যাট বক্সে প্রশ্ন করতে পারে বা রেইজ হ্যান্ড ফিচার ব্যবহার করে শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
গুগল মিট (এড়ড়মষব গববঃ)
জি-মেইল অ্যাকাউন্ট থাকলেই গুগল মিট ব্যবহার করা যায় খুব সহজে। এর ইন্টারফেস অত্যন্ত সাধারণ এবং ব্যবহারবান্ধব। যাদের ফোনে স্টোরেজ কিছুটা কম, তাদের জন্য গুগল মিট চমৎকার কাজ করে।
মাইক্রোসফট টিমস (গরপৎড়ংড়ভঃ ঞবধসং)
এটি মূলত একটি সম্পূর্ণ প্যাকেজ। এখানে ভিডিও কলিংয়ের পাশাপাশি ফাইল শেয়ারিং এবং চ্যাটিংয়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। বড় প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম ব্যবস্থাপনার জন্য এটি দারুণ।
গুগল ক্লাসরুম (এড়ড়মষব ঈষধংংৎড়ড়স)
লাইভ ক্লাস শেষ হওয়ার পর অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া, ক্লাসের লেকচার শিট শেয়ার করা এবং নোটিশ দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা প্রয়োজন। গুগল ক্লাসরুম এই কাজের জন্য অদ্বিতীয়। শিক্ষকরা এখানে প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা ক্লাস খুলতে পারেন। শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই তাদের বাড়ির কাজ জমা দিতে পারে। শিক্ষকরাও নির্দিষ্ট সময়ে খাতা মূল্যায়ন করে সরাসরি মতামত জানিয়ে দিতে পারেন।
ক্যামস্ক্যানার (ঈধসঝপধহহবৎ)
অনলাইন পড়াশোনার এই তালিকায় ক্যামস্ক্যানার বাদ দিলে তা সত্যিই অপূর্ণ থেকে যায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাপ। অনলাইন ক্লাসে পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্টের ক্ষেত্রে অনেক সময় খাতায় লিখে তা জমা দিতে হয়। ক্যামস্ক্যানার ব্যবহার করে সেই হাতে লেখা খাতা বা নোটের ছবি তুলে মুহূর্তেই পেশাদার মানের পিডিএফ ফাইল তৈরি করা সম্ভব। এটি সাধারণ ছবির তুলনায় লেখাকে অনেক বেশি পরিষ্কার ও পড়ার যোগ্য করে তোলে। ফলে শিক্ষকের পক্ষে সেই খাতা মূল্যায়ন করা সহজ হয়। এছাড়া জরুরি দরকারি কাগজপত্র বা বইয়ের কোনো অংশ সেভ করে রাখার জন্য এর বিকল্প নেই।
ডিজিটাল খাতা (নোটস অ্যাপ)
ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখে রাখার জন্য খাতা কলমের পাশাপাশি ডিজিটাল নোটস অ্যাপের ব্যবহার এখন অনেক বেড়েছে। গুগল কিপ বা সাধারণ নোটস অ্যাপগুলো এ ক্ষেত্রে দারুণ উপকারী। ক্লাসের মাঝে হঠাৎ কোনো পয়েন্ট মনে রাখতে হলে দ্রুত এসব অ্যাপে লিখে রাখা যায়। পড়ার রুটিন তৈরি বা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার চেকলিস্ট বানাতেও এই অ্যাপগুলো শিক্ষার্থীদের খুব সাহায্য করে।
ক্যানভা (ঈধহাধ)
পড়াশোনাকে এখন শুধু বইয়ের পাতায় আটকে রাখলে চলে না, তাকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হয়। স্কুল-কলেজের বিভিন্ন প্রজেক্ট বা প্রেজেন্টেশন স্লাইড বানানোর জন্য ক্যানভা এখন শিক্ষার্থীদের কাছে খুব পরিচিত একটি নাম। গ্রাফিক্স ডিজাইনের কোনো ভারী সফটওয়্যার জানার প্রয়োজন নেই। ক্যানভার হাজার হাজার রেডিমেড টেমপ্লেট ব্যবহার করে খুব সুন্দর সব প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায়। স্টোরেজ সমস্যায় অ্যাপ ইন্সটল না করে সরাসরি ওয়েব থেকেও ব্যবহার করা যায় ক্যানভার সব ফিচার।
অনলাইন পড়াশোনা প্রথমে অনেকের কাছে কিছুটা জটিল মনে হলেও সঠিক অ্যাপের ব্যবহারে তা হয়ে ওঠে অনেক বেশি গোছানো। লাইভ ক্লাসে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে ক্যামস্ক্যানারে পরিষ্কারভাবে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা, সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়। ডিজিটাল এই যুগে পিছিয়ে না থেকে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর সঠিক ব্যবহার আয়ত্ত করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্যই অত্যন্ত জরুরি।