আলমগীর হোসেন ও আসাদ মাহমুদ॥ নারী কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কর্মকান্ডে ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী। তিনি যেখানেই চাকরি করেছেন, সে স্টেশনকে বানিয়েছেন অর্বেধ যৌন কর্মকান্ডের হেরেমখানা। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার নাম কামরুল হাসান। বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের হবিগঞ্জ ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে কর্মরত। তার বেপরোয়া লাইফস্টাইল দেশ-বিদেশে অসামাজিক কর্মকান্ড, বিকৃত যৌন লালসা ও একের পর এক নারী কেলেঙ্কারীতে সুনাম নষ্ট হচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের। ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে গোটা প্রকৌশলী সমাজের। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কখনো মুতা বিয়ের পাত্র কখনো প্রেমিক আবার বেশীরভাগ সময়ে সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি পদ পদবী ব্যবহার করে তিনি একের পর এক যৌন কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে পড়ছেন। আত্মীয়-স্বজনসহ তার বিকৃত যৌন লালসা থেকে বাদ যাচ্ছেন না অধিনস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীরাও। অবৈধ অর্থের জোড়ে তিনি সৃষ্টির আদিম খেলায় এখন অনেকটাই অপ্রতিরোধ্য।

যৌন লালসা মেটানোর ফর্মুলা ‘মুতা বিয়ে’ঃ মুতা বিয়ে/বিবাহ (নিকাহুল মুতা)- হলো একটি নির্দিষ্ট সময় ও মোহরের বিনিময়ে সম্পাদিত অস্থায়ী বিয়ে বা বিবাহ, যা শিয়া আইনশাস্ত্রে অতীতে এক সময়ে অনুমোদিত হলেও সুন্নি মতাদর্শে সর্বাবস্থায় সর্ব সময়েই নিষিদ্ধ বা হারাম। নির্দিষ্ট সময় শেষে এই বিয়ে আপনা-আপনি ভেঙে যায়, কোনো তালাকের প্রয়োজন হয় না। এটি সাধারণত চুক্তির ভিত্তিতে এবং সাক্ষী ছাড়াই এক ধরণের গোপণ বিয়ে। অভিযোগ মতে, ২০১৭ থেকে ২০২২ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী ডিভিশনের দায়িত্বে থাকতে স্থানীয় জনৈক মামুন ও ‘রিশাদ’ সহ আরো ২/১ জন ঠিকাদার নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেন। তারাই নামে-বেনামে একচেটিয়া কাজ করতো আ’লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে। উল্লেখিত দুই ঠিকাদার প্রকৌশলী কামরুলকে অত্যন্ত গরিব পরিবারগুলো থেকে উঠতি বয়সের নিত্যনতুন সুন্দরী মেয়ে ঠিক করে দিতো বলে জানা যায়। পরে ২/১ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে মুতা বিয়ে নামক সাময়িক/প্যাকেজ বা সংক্ষিপ্ত বিয়ের মাধ্যমে ওই সকল মেয়েদেরকে ভোগ করতো-এই মর্মে অভিযোগ উঠেছে। নিত্য-নতুন নারীদেহের স্বাদ নিতে ওই সকল মেয়েদের ওপরে বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ করার পরে ১৫দিন/১ মাস পর পর ওই ‘মুতা বউ’ পাল্টাতেন তিনি। প্রকৌশলী কামরুল নোয়াখালীতে এ রকম প্রায় ৪০টি বিয়ে করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। হবিগঞ্জেও সে একই প্রচেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো সফল হননি বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রকৌশলী কামরুলের মুতা বিয়ের প্রধান সংগ্রাহক ছিলেন মেসার্স আব্দুল ছাত্তার আহাদ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক এক সময়ের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মামুন। তাকে সহযোগীতা করতো স্থানীয় রিশাদ নামক আরেক ঠিকাদার। এই মামুনের নামে তিনি ২৪২/এ ফকিরপুর রশীদ কলোনী মাইজদীতে একটি ৩তলা বাড়ি করেছেন। ওই বাড়ির ২য় তলায় কামরুল ওই সকল মুতা বউ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বসবাস করেছেন।
অধঃস্তন সহকর্মীর সুন্দরী বউকে নিয়ে কেলেঙ্কারীঃ
ভদ্রব্যাশী চেহারার লম্পট প্রকৌশলী কামরুল ২০১৫/২০১৬’তে পটুয়াখালীতে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) পদে থাকতে তার বদনজর পরে অধীনস্থ ‘হ’ (কৌশলগত কারণে নাম প্রকাশ করা গেল না) অদ্যক্ষরের এক উপসহকারী প্রকৌশলীর স্ত্রী ঝুমুরের ওপরে। সেখানে পটুয়াখালী মেডিকেলে কলেজের সাবস্টেশন ভবনে (প্রকৌশলী কামরুল ওই ভবনে থাকতো) ঝুমুরকে নিয়ে রঙ্গলীলায় মত্ত হতো প্রকৌশলী কামরুল। এর পর প্রমোশন নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০১৭’তে নোয়াখালীতে বদলী হলে পরকীয়ার রঙ্গলীলা চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে ওই উপসহকারী প্রকৌশলীকে নিজে তদবীর করে নোয়াখালীতে বদলী করিয়ে আনেন তিনি। তাকে প্রথমে এসডিই কোয়ার্টারে থাকার ব্যবস্থা করিয়ে দেন লম্পট কামরুল। কিন্তু সেখানে কামরুল-ঝুমুরের বিষয়ে জানাজানি হওয়ার ভয়ে শিল্পকলার পেছনে স্থানীয় খালেক ডিলারের ভবনের নীচতলায় বাসা নিয়ে দেন প্রকৌশলী কামরুল। যাতে নির্বাহী প্রকৌশলীর বাঙলো থেকে ওই বাসাতে সহজেই যাতায়াত করা যায়। এই সহজ যাতায়াতের জন্য বাঙলোর বাউন্ডারীওয়াল ভেঙ্গে টিনের একটি গেইট লাগানো হযেছিলো সেখানে। নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের অফিসিয়াল যাবতীয় কাজের জন্য কামরুল ওই উপসহকারীকে বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় পাঠাতেন। এভাবে সুযোগ নিতেন ওই উপসহকারী প্রকৌশলীর বউ ঝুমুরের সাথে একান্তে সময় কাটানোর। ওই বাসায় যাওয়া-আসা বেশী করায় স্থানীয় আশেপাশের লাকজন একপর্যায়ে টের পেয়ে প্রকৌশলীু কামরুলকে বাসায় হাতেনাতে আটক করে। সে সময়ে গণপূর্তের স্থানীয় ঠিকাদার সোহেল প্রকৌশলী কামরুলকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বউয়ের পরকীয়ার বিষয়টি ওই উপসহকারী প্রকৌশলী জেনে যায়। উপসহকারী প্রকৌশলী স্ত্রী ঝুমুরকে তালাক দেয়। ভেঙ্গে যায় স্াজানো-গোছানো একটি সংসার। এতে কামরুলের পরকীয়ার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। সে ঝুমৃুরকে কথিত ঠিকাদার ভাঙ্গারী মামুনের কাসায় নিয়ে আসে। সেখানে আবার রঙ্গলীলা জমে ওঠে কামরুল ও ঝুমুরের। ওই বাসায় যেতে আসতে কামরুলের বদনজর পড়ে মামুনের কথিত মেয়ে কাজলের ওপরে। মামুনকে আরো বেশী করে বাগে আনতে ঠিকাদারী কাজ দেওয়া বন্ধ করে দেয় প্রকৌশলী কামরুল। ব্যবসা বাঁচাতে মামুন পালিত মেয়ে কাজলকে লম্পট কামরুলের হাতে তুলে দেয়। একই বাসায় রক্ষিতা ঝুমুর ও কাজল দু’জনকেই একসাথে ভোগ করতে থাকে কামরুল। ২০২২ সালে প্রকৌশলী কামরুলকে বরিশালে বদলী করা হয়। বরিশালে যাওয়ার পূর্বে স্থানীয় ঠিকাদাররা রক্ষিতা ঝুমুর ও কাজলকেসহ হাতেনাতে ধরলে তারা একজোট হয়ে ভাঙ্গারী মামুনের ওই বাসা ঘেরাও করে আন্দোলন করে প্রকৌশলী কামরুলকে গ্রেফতার করার জন্য। কিন্তু তৎকালীন স্থানীয় সাবেক মেয়র পিন্টু এসে প্রকৌশলী কামরুলকে রক্ষা করেন। দুজন রক্ষিতা ও কামরুলকে নিরাপদে সরিয়ে দেন সে সময়ে।
বরিশালে থাকতেও প্রকৌশলী কামরুলের নারী কেলেঙ্কারীর কারণে স্থানীয় ঠিকাদাররা তার বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিং ও প্রতিবাদ সভা করেছে।
সুমন্ধির বউয়ের সাথেও অবৈধ সম্পর্ক: নিত্য-নতুন যৌন সম্পর্কে শ্রাবন-কার্তিক মাসের পাগলা কুকুরের ন্যায় উত্তেজিত কামরুলের হাত থেকে বাদ যায়নি নিজ সুমন্ধির (বউয়ের বড় ভাই) স্ত্রী নার্স ফিরোজা। বরিশালে থাকতে এই ফিরোজাকে নিয়ে ছুটির দিনগুলোতে কুয়াকাটা সুন্দরবনে প্রমোদ ভ্রমনে গিয়ে বিভিন্ন কটেজ/রেস্ট হাউজ ও আবাসিক হোটেলগুলোতে আদিম খেলায় মত্ত হযে উঠতো কামরুল। ফিরোজাকে খুশি করতে তার নামে ঢাকার বসুন্ধরা রিভারভিউ এলাকায় সারিঘাট পয়েন্টে নদী ভরাট করে একটি দোতলা বাড়ী করেছেন প্রকৌশলী কামরুল। ওই বাড়ীর দোতলার ছাদের ওপরে একটি টিনসেড রুম করেও সেখানে মাঝেমধ্যেই পরকীয়া প্রেমিকা ও মুতা বউদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিকৃত যৌনলীলায় মত্ত থেকেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।

প্রকৌশলী কামরুলের স্ত্রী ডা. জান্নাতুল মাওয়া টুম্পাকে নিয়েও ভুল/অপ চিকিৎসা সহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে পিরোজপুরে।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী কামরুলের ব্যবহৃত ০১৮১৯ৃ..১২ নস্বরে একাধিকবার ফোন দিয়ে কোন রেসপন্স না পাওয়ায় কোন মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।