জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ॥ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা ২নং গণপূর্ত সার্কেলে চলছে অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাটের মহোৎসব। সার্কেল প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীর বেপরোয়া ঘুষ ও পার্সেন্টেজ বাণিজ্য অধীনস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে ঘুষ দুর্নীতিতে আরো কেশী করে উৎসাহিত করছে। স্বৈরাচারের দোসর হিসাবে পরিচিত এই প্রকৌশলী বিগত লীগ সরকারের ১৭ বছরে ছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। সময়ের পরিবর্তনে গিরগিটির ন্যায় রং পাল্টিয়ে রাজনৈতিক জার্সি ত্যাগ করে তিনি এখন নব্য জাতীয়তাবাদী। তার অধীনে বাংলাদেশ সচিবালয় সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপতাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাইকোর্ট সুপীমকোর্টের বিভিন্ন ভবন নির্মাণ কাজসহ জাতীয়তাবদী সরকারের উন্নয়নে প্রতিশ্রুত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কাজ চলমান আছে। ওই সকল নির্মাণ কাজে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সহযোগী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নামে-বেনামে
কাজ পাইয়ে দিয়ে আর্থিকভাবে পূণঃ বাসন করে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার কাজে উৎসাহ দিচ্ছেন প্রকৌশলী আবু নাসের। এমন গুরুতর অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় প্রকৌশলীর। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তার অধীনস্থ ৪টি গণপূর্ত বিভাগে পিপিআর বহির্ভূতভাবে দেড় শতাধিক ওটিএম এর অনুমোদন দিয়ে ৪%/৫% হিসাবে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করেছেন এই প্রকৌশলী। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
সার্কেলের আওতায় ঢাকা ৪নং বিভাগের অধীনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে টেন্ডার আইডি নং ১২৮২২৯৭ এর মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা (২৯৯৯০৭০৮.০০০ টাকা) চুক্তিমূল্যে নির্মাণাধীন সুপ্রীমকোর্ট রেকর্ড ভবনের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলার রি-অর্গানাইজেশন ওয়ার্কের নামে ন্যাশনাল ডেপলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং নামক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রকৌশলী আবু নাছের চৌধুরী। একই অর্থবছরে ১৪৩৪১৯৫৫.৭৫০ টাকা চুক্তিমূল্যে ১২৮২১৩৩নং টেন্ডার আইডির মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে ২টি লিফটকোর নির্মাণ, ৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দে একই অর্থবছরে ১০১৩৬৮৫নং টেন্ডার আইডির মাধ্যমে পূর্ত ভবনের রেট্রোফিটিং ওয়ার্ক, একই অর্থবছরে ১২৪৮০১৯নং টেন্ডার আইডির মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দে শাহবাগে জুলাই স্মুতিস্তম্ভ নির্মাণ, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারদের আবাসকি ভবন ও ডক্টরস ডরমেটরী বিল্ডিং নির্মাণ, ৪৩ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা চুক্তিমূল্যে ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশনে ট্রেইনিং সেন্টার কাম ডরমেরী বিল্ডিং নির্মাণ কাজ (বিতর্কিত বঙ্গ বিল্ডার্সকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে), মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ৯শ’ ১৯ দশমিক পাঁচ দুই পাঁচ টাকা চুক্তিমূল্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শহীদ ডা. মিলন হলে এ্যকোয়াষ্টিক করণসহ অভ্যন্তরীণ নবায়নসহ মেরামত কাজ, ১২৩৬৩০১৯.৮৫৪ টাকা চুক্তিমূল্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট ভবনের ৫ম তলার খোলা জায়গায় আনুসাঙ্গিক কাজসহ প্রিজন সেল নির্মাণ কাজ, একই অর্থবছরে একই প্রতিষ্ঠানে ২৪৬৯৯৪২৮.৮৪০ টাকা চুক্তিমূল্যে ওয়েষ্ট কেবিন ব্লক ও নিউরো সার্জারি ডিপার্টমেন্টের নবায়ন ও পূণঃ গঠন কাজ, একই অর্থবছরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওপিডি ভবনের ৩য় তলায় ডেন্টাল ইউনিট ও রেসপিরেটরি মেডিসিন ডিপার্টমেন্টের দুর্বল অংশের ভেঙ্গে পড়া ঠেকাতে ইস্পাতের প্রপেলার ইনস্টেলেশন কাজ, ইডেন ভবন গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ১৫৫৮৬৯৪৫.১৪৫ টাকা চুক্তিমূল্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কেবিনেট ডিভিশনে ভিভিআইপি কনফারেন্স রুমে নতুন টয়লেট নির্মাণ অডিটোরিয়াম রুমকে আইসিটি রুমে রুপান্তর করণ, ৫০১ ও ৬০১ নং রুমের ওয়েটিং লঞ্জের নবায়ন কাজসহ বিভিন্ন ধরণের মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, ১৩০০০০০১.০৭৪ টাকা চুক্তিমূল্যে ৭নং ভবনের ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম তলায় করিডোরে এ্যালুমিনিয়াম ফিক্সড ল্যুভর সিলিং নির্মাণ কাজ, ১৩৬৭১০৬৯.৪০৬ টাকা চুক্তিমূল্যে ওসমানী উদ্যানে সরকারি যানবাহন মেরামত কারখানার গেট নির্মাণসহ ফনিক্স রোড অভিমুখে আরসিসি সড়ক নির্মাণসহ বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ কাজ, ৩৪৩০১৯৯৩.৮৪৯ টাকা চুক্তিমূল্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ৭নং ভবনে ৬ষ্ঠ তলায় টাইলস পেইনটিং ফায়ার ডোর দরজা-জানালায় ্এ্যালুমিনিয়ামের কাজ, সেনিটারি ফিটিং ফিক্সারস পরিবর্তন কাজ, ২৬৯৯৯২৯৬.৭৫৯ টাকা চুক্তিমূল্যে সচিবালয়ের ৭নং ভবনের ৭ম তলায় রেট্রোফিটিংসহ একই ধরণের কাজ, একই অর্থবছরে ৪৯৪০১৫৫৫.৫৯৬ টাকা চুক্তিমূল্যে ৭নং ভবনের ৮ম ও ৯ম তলায় একই ধরণের কাজ, ঢাকা ৩নং ডিভিশনের অধীনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৬২৭৮৩৭০.২৬৫ টাকা চুক্তিমূল্যে তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ ভবনের অডিটোরিয়ামে এ্্যাকোয়াস্টিক করনসহ ইন্টেরিয়র কাজ, একই অর্থবছরে ১১০৩০৪১৯.৭০০ টাকা চুক্তিমূল্যে ব্িিজ প্রেসের বাইনডিং সেকশনের ছাদ রিপেয়ার ও রেনোভেশন কাজ, ১৩৭৪১৯৯২.৮৭৬ টাকা চুক্তিমূল্যে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে উত্তর পাশের্^র বাউন্ডারীওয়ালের নির্মাণ কাজ, ১০৪০৩০৭৩১.৪১৪ টাকা চুক্তিমূল্যে দঃ কেরানীগঞ্জ থানা ভবন ও ১০৮৩৬৩৫৫৩.৮০২ টাকা চুক্তিমূল্যে কেরানীগঞ্জ থানা ভবন নির্মাণ কাজ, ৩৪৩৭৮৮৮১.০২৩ টাকা চুক্তিমূল্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ড্রাগ এডিকশন ট্রিটমেন্ট সেন্টারে ১৫০ কেএলডি এসটিপি ও ২টি ২৫ ঘণমিটার বৃষ্টির পানি সংরক্ষনাগার নির্মাণ কাজগুলোর এস্টিমেট অনুমোদনে বড় অংকের টাকা ও সারপ্রাইজ ভিজিটের নামে বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আছে প্রকৌশলী আবু নাসেরের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নি¤œমাণের কাজের সুযোগ করে দিয়ে ও অধীনস্থ নির্বাহী প্রকৌশলীদের যোগসাজশে অর্ধকোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ রয়েছে।্ এ সকল কাজের সিএস পাশ করাতেও এই দুর্নীতিবাজ লুটেরা প্রকৌশলীকে ১%/১,৫% হারে ঘুষ দিতে হযেছে ঠিকাদারকে। বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিটিভি পররাষ্ট মন্ত্রণালয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর খিলগাঁও কর্মজীবী মহিলা হোষ্টেল বিয়াম ফাউন্ডেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত বিভিন্ন ধরণের মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ইষ্টিমেটগুলোর পাশে বিভিন্ন উপলক্ষে নিয়মিত পার্সেন্টেজের চেয়েও বেশী অংকের টাকা ঘুষ নিযেছেন এই প্রকৌশলী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পিপিআর বহির্ভূতভাবে ঢাকা গণপূর্ত ৪নং ডিভিশনের অধীনে ওটিএম টেন্ডার আইডি নং ১২৯৫৬৫১, ১২৭৪২০৫, ১২৯৫৬৪৪, ১২৮২৩৫০, ১২৮২২৫৩, ১২৮২২৫৩, ১২৮১১৭৪, ১২৮২১৩৩, ১২৮৪৫৮৯, ১২৮৪৩৯৭, ১২৮২৩৪৮, ১২৯৬২৬০, ১২৭৬৮২২, ১২৭৫২৬৯, ১২৮৩৩৭৭, ১২৭৫৬৩২, ১২৭৫৪৭৮, ১২৮৪৫৯৭, ১২৮৩৫৬৮, ১২৮৩৭২০, ১২৮৩৭৫১, ১২৭২৮৩৮, ১২৮৪২৯৮, ১২৭৫৪০২, ১২৭৫৫২৮, ১২৭৫৪২৯, ১২৭৫৬১২, ১২৭৫৫৭০, ১২৭৫৩৭১, ১২৭২৮১৮, ১২৭২৭৭৭, ১২৭২৮৩৩, ১২৭২৭৩, ১২৩৬৪১৯, ১২৪৪৯০৯, ১২৪৭৯৯৯, ১২৪৪৪৬১, ১২৩৬০৭৫, ১২৫২৭২৩, ১২৫২৩১০, ১২৪৮০২৩, ১২৩৫৭০৬, ১২৩৬২৩৯, ১২৫২৮৯৮, ১২৫২৭৫৪, ১২৫২৯২৯, ১২৪৭৯৮৯, ১২৪৮০০৪, ১২৫৮০১৮, ১২৪৮০১৯, ১২৪৭৭০৩, ১২৪৭৬৪৯, ১২৪৪৪৪৭, ১২১৯৫৯৮, ১২৪৫৭৪২, ১২১৭৬১৯, ১২১৯৬১০, ১২১৯৫৭৯, ১২১৯৬০৩, ১১৮৩৮০৫, ১২০২৭২৪, ১২০২৭১৮, ১২০২৭২৫, ১১৬৩৬২২; ইডেন ভবন গণপূর্ত বিভাগের অধীনে- ওটিএম টেন্ডার আইডি নং ১২৮৮৫৯১, ১২৮৭৪৯১,১২৮৮৫৯৩, ১২৮৪৬৯০, ১২৮৪৬৯২, ১২৮৪৬৯৩, ১২৮৪৬৯৪, ১২৮৪৭০৫, ১২৮৫৪৯৩, ১২৮৪৬৯৪, ১২৮৪৮৭০৫, ১২৮৫৪৯৩, ১২৮৪৭০০, ১২৮২৬১৪, ১২৮৫৪৯৪, ১২৮৪৬৯৯, ১২৮৪৬৯৮, ১২৮৪৬৯৫, ১২৮২৮১২, ১২৮৫৪৯৯, ১২৮২৬১০, ১২৮৫৪৯১, ১২৮২৬০৯, ১২৮৫৪৯৬, ১২৭৬৩৪২, ১২৭৬৩৪০, ১২৭৬২৭৮, ১২৭৬৩৩৩, ১২৮২৬১৩, ১১৪০১৭১, ১২৮৫৪৯০, ১১৪০১৭১, ১১৮০৪৬৫; মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ওটিএম টেন্ডার আইডি নং- ১২২২৩০৪, ১২২৪৪৭৫, ১২২৬৫১৭, ১২৩৪৫৯৬, ১২৫২৫৭৬, ১২৫৯২৮১, ১২৮০০৩১, ১২৮০০৩০, ১২৮০০২৯, ১২৮২১৪৭, ১২৮২১৪৬, ১২৭৮৮৫০, ১২৮২০৫০, ১২৮২০৫৬, ১২৮২০৫৫, ১২৮২০৫৪, ১২৮২০৫৩, ১২৮২০৫১, ১২৮২০৫২, ১২৭৮৮৩৮, ১২৯৫৮২৯, ১২৯৫৮৩০ এবং ঢাকা ৩নং গণপূর্ত বিভাগের অধীনে টেন্ডার আইডি নং ১২৫৬৪৭৮, ১২৬২৯৬৫, ১২৫০৫৩২, ১২৪৯৪১৬, ১২৫০৬১৫, ১২৫১৪৩৩, ১২৫১৫৪৫, ১২৫১৫৪২, ১২৩১২০৪, ১২৩২৭৭১, ১২৩২৭৮৪, ১২৩২৮০৬সহ প্রায় ২শ’ টেন্ডার আইডি পাশ করিয়ে সিন্ডিকেচভূক্ত পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে পার্সেন্টেজ বাবদ বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই লুটেরা লম্পট হিসাবে পরিচিত প্রকৌশলী আবু নাসের।
অপরদিকে ৪নং ডিভিশনের উপবিভাগ-৫ থেকে বিবিধ খরচের নামে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ভাউচার করা হয় প্রতিবছর। ভবনসহ সার্কেলের আপ্যায়ন খাতে এই সাবডিভিশন থেকে প্রতিবছর অর্ধকোটিরও বেশী টাকা খরচ দেখানো হয়। এমনকি সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দুপুরের খাবারসহ আপ্যায়ন খরচ এই সাবডিভিশন থেকে মেটানো হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। দুপুরের খাবার ও আপ্যায়নের ওই খরচ ভাউচার ও বিভিন্ন কাজের নামে ইস্টিমেট তৈরী করে সে নামে কাজের বাস্তবায়ন দেখিয়ে (প্রকৃতপক্ষে কোন কাজ না করে) সমন্বয় করা হয় বলে জানা গেছে। এ নিয়ে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী পর্বে।
আরো জানা যায়, প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী নিজেকে বান্দবীমহলে আকর্ষণীয় রাখতে ব্যবহার করেন বিদেশী উন্নতমানের সেন্ট বা পারফিউম। এর বেশীরভাগ যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ফ্রান্স জার্মানী থেকে আমদানীকৃত। সার্বক্ষনিক ব্যবহারের জন্য নিজের অফিস ও গাড়িতেও মজুদ রাখেন এ ধরণের সেন্ট বা পারফিউম। এ কারণে গণপূর্ত প্রকৌশলী মহলে ‘সেন্ট/পারফিউম নাসের’ নামেও ব্যাপক পরিচিত তিনি। ‘সেন্ট নাসের’ ঢাকা গণপূর্ত ২নং সার্কেলে বসেই অধীনস্থ ৪টি ডিভিশনের প্রাক্কলন পাশে অধীনস্থ সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীদের মাধ্যমে নগদ ৩% ঘুষ আদায় করছেন। পাশাপাশি প্রাক্কলনে ভুল থাকলে তা সংশোধন ও নন সিডিউল আইটেম থাকলে বরাদ্দের ৪% থেকে সাড়ে ৪% বা এর থেকেও বেশী ঘুষ দিতে হয় তাকে। এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্পের ভ্যারিয়েশন পাশ করা ও সারপ্রাইজ ভিজিটসহ বিবিধ কৌশলে পার্সেন্টেজ বাণিজ্য করছেন উত্তরাধীকার সূত্রে পার্সেন্টেজখোড় দুর্নীতিবাজ এই প্রকৌশলী।
আরো জানা যায়, মাফিয়া প্রকৌশলী আবু নাসের ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম দোসর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির দুর সম্পর্কীয় ভায়রা ভাই। সে সুবাদে লিয়েন ফেরৎ এসে বিতির্কিতভাবে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ডিপার্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। নভেম্বর ২০১৭ থেকে সম্পদ ডিভিশন মার্চ ২০২১ইং পর্যন্ত ওই ডিভিশনের দায়িত্বে থাকতে আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অপ্রয়োজনীয় দ্বিগুণ তিনগুণ বরাদ্দ এনে ভ্যারিয়েশন করে হাতিয়ে নিয়েছেন বড় অংকের অর্থ। এমনকি ওই সময়ে এপিপির বেশীরভাগ কাজ এলটিএমের পরিবর্তে পাতানো ওটিএম করে পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে বন্টণ করে বরাদ্দের ১০% হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। একইভাবে বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের অনুমতি দিয়ে প্রায় কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সে সময়ে একজন নারী কর্মকর্তা বগুড়া ডিভিশনের দায়িত্বে থাকার কারণে ডিভিশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ বিল প্রদানসহ সামগ্রীক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেও অসংখ্য অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন অভিযুক্ত এই কর্মকর্ত। এ কারণে বগুড়া সার্কেল অফিসে যেটুকু সময় অফিস করতেন কথিত মিটিংয়ের নামে ওই নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার অভিযোগ করেছেন সেখানকার কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদার। এমনকি ঢাকা থেকে ঠিকাদার ডেকে নিয়ে তাদের নামে প্রকৌশলী নাসের নিজেই ব্যবসা করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। (ক্রমশঃ)