ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পর্ব-(৩): কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধি ভঙ্গ করে গণপুর্ত ডিপ্লোমা উপসহকারী পাঁচ প্রকৌশলী এখন মিনি শিল্পপতি!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 9, 2026 ইং
পর্ব-(৩): কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধি ভঙ্গ করে গণপুর্ত ডিপ্লোমা উপসহকারী পাঁচ প্রকৌশলী এখন মিনি শিল্পপতি! ছবির ক্যাপশন: ঘড়ির কাটার দিকে: উসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু, সহকারী প্রকৌশলী ই/এম গোলনাহার, উপসহকারী প্রকৌশলী ই/এম আব্দুর রউফ তালুকদার ও সকারী প্রকৌশলী ই/এম আবুল বাশার
ad728
জয়নাল আবেদীন যশোরী ও নাসির হোসেন:
গণপুর্ত অধিদপ্তরের পাঁচ ডিপ্লোমা উপসহকারী প্রকোশলীর শৃঙ্খলা বহির্ভূত  কর্মকান্ডে হতাশ অন্য সব সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা ও প্রকৌশলীরা। এরা বড় বড় ডেভেলপার কোম্পানীর সাথে পাল্লা দিয়ে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় দৃস্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করে উন্নতমানের ফ্ল্যাট/এপার্টমেন্ট বিক্রি করছে। আমাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে এই পাঁচ গণপুর্ত ডিপ্লোমা উপসহকারী প্রকৌশলীর ডেভেলপার ব্যবসা বিভিন্ন চিত্র। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই ব্যবসার মূলহোতা গণপুর্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান। তার সাথে আরো আছে উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু, সহকারী প্রকৌশলী ই/এম আবুল বাশার, উপসহকারী প্রকৌশলী ই/এম আব্দুর রউফ ও সহকারী প্রকৌশলী ই/এম গুলনাহার এবং এদের পরিবারের লোকজন। গণপুর্ত উপসহকারী মিজানুর রহমানের দুই ভাই আছেন ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের হেড অব মার্কেটিংয়ে। যা ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। ২০২০ সাল থেকে শুরু হয়েছে এই ডেভেলপার ব্যবসা। এদের রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাং বাহিনী, যার ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। তবে ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের কর্পোরেট অফিস পাওয়া যায় পাঁচটি। এগুলো হচ্ছে- মোহাম্মদপুর বসিলা ব্রীজ: যার ঠিকানা, অফিস #২:১৮:/৪ নিচতলা,ওয়াশপুর টাওয়ার, ওয়াশপুর (মোহাম্মদ পুর বসিলা ব্রীজ সংলগ্ন, ঢাকা।) অফিস #১: নিচ তলা, ওয়ার্ড #১০,গৈলারটেক মিরপুর ১, ঢাকা। যার মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জি. মোঃ রাশেদ-উল আলম, মোবাইল নং ০১৮৪....৫২৫, ০১৭৩....১৬২। এখানে দেখা যায়, ফিউচার ড্রিম" ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন এবং ইন্টেরিয়র সলিউশন, এদের সেবাসমূহ: বিল্ডিং ডিজাইন এবং কনস্ট্রাকশন, স্ট্রাকচারাল এবং  আর্কিটেকচারাল ডিজাইন, ইলেকট্রিক্যাল এবং প্লাম্বিং ডিজাইন, রাজউক প্ল্যান পাশ, মাটি পরীক্ষা, হোম ইন্টেরিওর, অফিস ইন্টেরিওর। আবার একই ঠিকানা ওয়াশপুর টাওয়ার কেরানীগঞ্জ ঢাকা, অফিস-১৩১০,উত্তরা দক্ষিণ মেট্রোরেল স্টেশন দিয়াবাড়ি ঢাকা ও সাভার ডিওএইচএস নবীনগর এলাকায়। ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স (Future Dream Builders) প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও ঠিকানার মূলকেন্দ্র মোহাম্মদপুরের বসিলা ও ওয়াশপুর এলাকা। 
কেরানীগঞ্জের ওয়াসপুর এলাকায় ফিউচার ড্রিম এর নির্মিত ভবন

প্রতিষ্ঠানের বিবরণ ও ঠিকানা
ধরন: ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন, ইন্টেরিয়র এবং সাপ্লাই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
অবস্থান: বসিলা, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
কার্যক্রম: বিভিন্ন প্রজেক্ট ও পিডব্লিউডিতে কাজের সুবাদে তাদের অফিস বা কাজের সাইট বসিলা ্িব্রজ ও ওয়াশপুর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। এই সব এলাকায় অনুসন্ধানে দেখা যায়, তাদের ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট/এপার্টমেন্ট বিক্রি করছে দেদারসে। এই ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স লিমিটেড এর মালিকরা গণপুর্ত ডিপ্লোমা  উপসহকারী প্রকৌশলী হওয়ায় তাদের ভবন নির্মাণ খুব সুন্দর দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করে কাজ করছে।
রাতের আধারে কিশোর গ্যাং বাহিনীর সাথে মিজানুর রহমানের জন্মদিন উৎসব

আইন কি বলে: 
সরকারি চাকরি আইন ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলীদের সরাসরি কোনো বাণিজ্যিক ব্যবসা বা ডেভেলপার ব্যবসা করার অনুমতি নেই। সরকারি চাকরিতে থেকে অনুমতি ছাড়া বা গোপনে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং তা শাস্তিযোগ্য ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়। 
আইনি নিষেধাজ্ঞা ও বিধিমালা
বাণিজ্যিক ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞা: সরকারি কর্মচারীরা সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া লাভজনক কোনো ব্যবসা, বাণিজ্য বা অন্য কোনো চাকরিতে সরাসরি অংশ নিতে পারেন না। 
কোম্পানি গঠনে বাধা: সরকারি আচরণ বিধিমালার নিয়মানুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো কোম্পানি স্থাপণ, নিবন্ধন বা তার ব্যবস্থাপনায় সরাসরি অংশ নিতে পারেন না। ডেভেলপার ব্যবসা যেহেতু সাধারণত লিমিটেড কোম্পানি বা প্রাইভেট ফার্ম হিসেবে পরিচালিত হয়, তাই এতে যুক্ত থাকা স্পষ্ট নিয়মবহির্ভূত। 
স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest): গণপূর্তের প্রকৌশলীরা যেহেতু নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজের তদারকি, প্রাক্কলন তৈরি ও ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকেন, তাই নিজে ডেভেলপার ব্যবসা করলে তা দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাত হিসেবে গণ্য হয়। 
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
সরকারি চাকরি আইন ও শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী বিনা অনুমতিতে ব্যবসা করার প্রমাণ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
লঘুদন্ড থেকে শুরু করে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো গুরুদন্ড হতে পারে।
এছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বা দুর্নীতির অভিযোগ যুক্ত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আইনেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। 
তবে অভিযুক্ত এই গণপুর্ত ডিপ্লোমা উপসহকারী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করার পরে টনক নড়ে। যার কারণে এই ডালাস ডেভেলপারস এন্ড প্রপার্টিস লিমিটেড ও ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্সের ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ প্রচার বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পেইজ থেকে ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলেছেন তারা। কিন্তু আমাদের হাতে এই ডেভেলপার কোম্পানীর বেশকিছু  ডকুমেন্টস সংরক্ষণ করা হয়েছে। এদের সকল কার্যক্রম চলমান তবে কৌশল বদল করেছে। যেমন জমি ক্রয় করে শেয়ার বিক্রি। তবে মোহাম্মদপুর বসিলা ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় ভবন নির্মাণ করে বিভিন্ন বাহিনীর নামের উপর ফ্ল্যাট ও এপার্টমেন্ট বিক্রি করছে; যার তথ্য অনুসন্ধানে উঠে আসে। এই গণপুর্ত উপসহকারী মিজানুর রহমান তার সহোদর ভাইদেরকে দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তার আপন খালুর সাথে যোগসাজশে ডেভেলপার ব্যবসা আছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়।
এদিকে ডালাস ডেভলপারস এন্ড প্রপার্টিস লিমিটেড এর সাথে অদৃশ্য পার্টনারশীপ রয়েছে, যার প্রমাণ পাওয়া যায় সাভার ডিওএইচএস এ। আবুল বাশার তিনি মোবাইল ফোনে সব স্বীকার করে তার বক্তব্য ও প্রমাণাদি আমাদের হাতে সংরক্ষিত আছে। এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবুল বাশার, তার সহোদর ভাই ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ উল আলমকে দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন ফ্ল্যাট ও এপার্টমেন্ট বিক্রি করে যাচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল বাশার তিনি গণপূর্ত ই/এম ডিভিশন-৬ এর আওতায় সাভারে অনেক বছর যাবত আছেন বহালতবিয়তে। তার সহধর্মিণী সহকারী প্রকৌশলী ই/এম গুলনাহার আছেন এই ডেভেলপার কোম্পানীর রীমোর্ট কন্ট্রোল হাতে নিয়ে। তিনি বর্তমানে গণপূর্ত ই/এম সার্কেল-৩ কর্মরত।  এই অবৈধ ব্যবসার আরেক পার্টনার উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ, তিনি মোবাইল ফোনে বলেন কোন কোন ভবনের কয়তলার ফ্ল্যাট ও এপার্টমেন্ট বিক্রি করা হবে। এদিকে আনোয়ার খান আনু গণপুর্ত উপসহকারী সাভার ডিভিশনে দীর্ঘ দশ থেকে বারো বছর যাবত আছেন বহালতবিয়তে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঢাকা আশুলিয়া, আব্দুল্লাহপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভ্যালুয়েশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমন অভিযোগ পাওয়া যায় সরেজমিনে। তাছাড়া তিনি সাভার গণপুর্তর পর্যটন এর সামনে পেছনে যে জমির উপর দোকানপাট ভাড়া বা পজিশন বিক্রি করা হয় তার কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে। এদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং ডেভেলপার ব্যবসার অভিযোগ অনুসন্ধান পূর্বক তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনের আওতায় আনলে দেশ ও গণপুর্ত অধিদপ্তর দুর্নীতি মুক্ত হবে। পাশাপাশি অন্যান্য দুর্নীতিবাজ এবং সরকারি কর্মচারী আইন লংঘন করে, যাতে দুর্নীতি, অর্থ লোপাট ও অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, এর জন্য সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে,  দেশের উন্নয়ন ব্যহত হবে না এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।
এই চক্রের অবৈধ ডেভরপার ব্যবসা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আগামী পর্বে থাকছে অডিও রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজসহ বিস্তারিত।  ‘বাঙালি সংবাদ’ এর সাথেই থাকবেন-সুস্থ থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন।




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অবৈধ সম্পদের পাহাড়ে রাজউক পরিচালক মোবারক!

অবৈধ সম্পদের পাহাড়ে রাজউক পরিচালক মোবারক!